Friday, February 5, 2016

ডাচ বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে অদক্ষ ব্যাংক?

দেশের বাইরের ফ্রিল্যান্স কাজ করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। কারণ বাইরের কাজ করে টাকা দেশে আনা খুব জটিল বিষয়। তারপরেও পুরনো সম্পর্কের খাতিরে সিঙ্গাপুরের একটা প্রতিষ্ঠানের হয়ে ছোট একটা কাজ করলাম। সম্পর্ক ভাল বলে তারাও দ্রুত পেমেন্ট করতে চাইলো। টাকাটা আমার ডাচবাংলা ব্যাংকের একাউন্টে টিটি করে পাঠালো।

এরপরে শুরু হলো নাটক, বরং প্রহসন বলা ভাল। ৬ নভেম্বর ২০১৫ দুপুর ২ টা ২৮ মিনিটে সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকের মাধ্যমে ডাচবাংলা ব্যাংকের রিং রোড ব্রাঞ্চের আমার একাউন্টে টাকা জমা করে। ব্যাংকের রশিদ এবং আমার ইনভয়েস স্ক্যান করে ওই দিনই আমাকে মেইল করে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ৬ নভেম্বর শুক্রবার, বাংলাদেশের ব্যাংক বন্ধ, আমি ধীরে সুস্থে ৯ নভেম্বর সোমবার ব্যাংকে যাই, ব্যাংক থেকে জানায় শুক্র শনি বন্ধ থাকায় এখনো টাকা আসেনি, আপনি ২/১ দিন পরে আসুন। আমি ৩/৪ দিন পরে আবারো যাই। তখনো আসেনি। এদিকে সিঙ্গাপুর থেকে বার বার ওরা জানতে চায়, টাকাটা পেয়েছি কিনা। পরের সপ্তাহে আবার ব্যাংকে যাই। এবার ব্যাংক বলে- রশিদ দেখে মনে হচ্ছে, আপনার কোম্পানি ব্যাংকে টাকা জমা করেছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকাটা ট্রান্সফার করেনি। আপনি কোম্পানিকে সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে যোগাযোগ করতে বলেন।

ব্যাংকে যোগাযোগ করার পর ব্যাংক থেকে একটা ডকুমেন্ট স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেয়, তাতে লেখা- ১২ নভেম্বর ২০১৫ সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক বাংলাদেশের ডাচবাংলা ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করেছে। ট্রান্সফার নম্বর, সময় এবং ট্রান্সফারের জন্য ব্যাংকের অতিরিক্ত ৪০ ডলার হ্যান্ডলিং এবং কেবল্ চার্জও যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি পরিশোধ করেছে, সবকিছুই সেখানে লেখা আছে। কিন্তু ডাচবাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা কোনোভাবেই এর তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ করি, তারা খুঁজে পান না। অহেতুক ব্যাংকে যাওয়াও অর্থহীন হয়ে ওঠে, তাই একদিন নিজেই নিজের একাউন্টে কিছু টাকা জমা দেই। একদিন কিছু টাকা তুলি। এর মধ্যে একদিন আমার ডেবিট কার্ডের ধরন বদলে মাস্টারকার্ড দেয়ার জন্য আবেদন করি। মোটামুটিভাবে নানা অহেতুক কাজকর্ম করে প্রতি সপ্তাহে ব্যাংকে যাওয়াটাকে অর্থবহ করার নিষ্ফল চেষ্টা করি।

আড়াই মাস কেটে গেল। আমার টাকাও আসে না। এদিকে যে মাস্টারকার্ডের জন্য আবেদন করেছি, তাও আসে না, যদিও প্রায় দেড় মাস আগে কার্ডের বার্ষিক চার্জ বাবদ ৯২০ টাকা ব্যাংক ঠিকই কেটে নিয়েছে।

এর মধ্যে গত সপ্তাহে হঠাৎ করে ব্যাংক আমার টাকাটা খুঁজে পায়। ১২ নভেম্বরেই নাকি এসেছে। তবে ডাচবাংলা ব্যাংকের ৪০ ডলার সার্ভিস চার্জ কেটে বাকিটা আছে। দুই পক্ষকেই সার্ভিস চার্জ কেন দিতে হবে, সেই প্রশ্ন আর করলাম না, টাকার খোঁজ পাওয়া গেছে, এটাই আমার পরম সৌভাগ্য। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা সি ফর্ম ফিলআপ করতে দেয়, দিলাম।

এরপর কেটে গেল আরো এক সপ্তাহ। সিঙ্গাপুর থেকে টাকা পাঠানোরও তিনমাস পূর্ণ হলো। এখনো আমার একাউন্টে জমা হয়নি সেই টাকা।

ডাচবাংলা ব্যাংকের জঘন্য সার্ভিসের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম না। এর আগেও টাকা আসার সময় তারা আমাকে ডিবিবিএলের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত দৌড় করিয়েছিল। কিন্তু এর পরে কয়েকবার সহজেই টাকা পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর হয়তো ঝামেলা হবে না, তাই দেশের সবচেয়ে অলস ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও এই একাউন্ট নম্বরটি সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানে দিয়েছিলাম এবং সেটিই ছিল আমার প্রধান ভুল। এখন সেই ভুলেরই খেসারত দিচ্ছি।

No comments:

Post a Comment